Home / মিডিয়া নিউজ / কলকাতার সুখ সয়না সবার!

কলকাতার সুখ সয়না সবার!

‘নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস/ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস/ নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে/

কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মোহ’ কবিতার মত মোহে পড়ে

ঢালিউডের অনেকেই পাড়ি জমিয়েছিলেন কলকাতায়। স্বদেশের সিনেমা পায়ে ঠেলে ওপারেতে নিজেকে

ঢেলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সুখ বেশিদিন টেকেনি। এপার- ওপার দু- কূলই হারিয়েছেন তারা।

এদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে নিজ দেশে হারানো আসন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। ঘটনাগুলো কারো অজানা নয়।

আশির দশকের মাঝামাঝিতে উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর বিরাট একটি শূন্যতার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল টালিগঞ্জের সিনেমা। একের পর এক ছবি মুনাফা হারানোর ফলে কমে এসেছিল প্রযোজক, কমেছিল পরিচালকের সংখ্যাও। সিনেমা প্রযোজনার অনেক নামি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা গুটিয়ে অন্য ব্যবসায়ে নাম লিখিয়েছিল। শিল্পীরাও বেকার হয়ে পড়েছিলেন। সেই মন্দা অবস্থা কাটিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে আবারও ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন কিছু মানুষ। আর তাদের মধ্যে উজ্জ্বল কিছু নাম বাংলাদেশেরও।

অন্যতম একজন হলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্বপন সাহা। তার হাতেখড়ি হয়েছিল বাংলাদেশি সিনেমাতেই। এখানেও তিনি বেশ কিছু সুপারহিট ছবি নির্মাণ করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘অবিশ্বাস’,‘ভাইভাই’ ইত্যাদি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে সিনেমা নির্মাণে মনোনিবেশ করেন।

আর উপহার দিতে থাকেন একের পর এক হিট ছবি। টানা সিনেমা বানিয়েছেন ২০১৩ সাল পর্যন্ত। স্বপন সাহাকে অনেকে রিমেকের মাস্টারও বলে থাকেন। বাংলাদেশে সুপারহিট হওয়া অনেক ছবি তিনি কলকাতায় রিমেক করেছেন। তবে স্বপন সাহার মতো খুব কমই আছেন যারা সফল হয়েছেন।

অতীতে ফিরে তাকালে দেখা যায়- এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমার নায়িকা তিনি। ঢালিউডে প্রায় অর্ধ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি তারকা হয়ে ওঠেন। অঞ্জু দুই বাংলাতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৯৯৫ সালে অঞ্জুকে নিয়ে ‘নেশা’ সিনেমার কাজ শুরু করেন নির্মাতা সাইদুর রহমান সাইদ। এই সিনেমাটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৯৯৬ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান এই নায়িকা। তখন কলকাতায় অঞ্জুর বেশ চাহিদা। নির্মাতার বাধ্য হয়ে ছবিটি জোড়াতালি দিয়ে মুক্তি দেয়। সেই যে গেলেন আর এলেন না ঢালিউডে।

কলকাতায় ব্যস্ততা খুব বেশিদিন ছিল না। ২০০৪ সালের দিকে অঞ্জু মঞ্চে কাজ শুরু করেন। বয়স হয়ে গেলে সেখানেও গ্রহনযোগ্যতা কমতে থাকে। এরপর হাতে অখণ্ড অবসর। কলকাতায় তিনি অলস সময় পার করেছেন। ২২ বছর পর বিএফডিসিতে এসে বলে গেলেন তিনি আগ্রহী সিনেমায় অভিনয়ের।

সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুতে তার অসমাপ্ত ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায় কাজ করতে ফেরদৌস প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন। ছটকু আহমেদ পরিচালিত এ সিনেমার গল্পে কিছুটা পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে কাজ করার সুযোগ দেন। এরপর ১৯৯৮ সালে ফেরদৌস এককভাবে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘পৃথিবী আমারে চায় না’ সিনেমার মাধ্যমে। বাংলা চলচ্চিত্রে ফেরদৌস পরিচিত পেতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময় বাসু চ্যাটার্জির ডাকে সাড়া দিয়ে যৌথ প্রযোজনার ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমায় কাজ করেন। দারুন সাড়া ফেলে দুই বাংলায়। এরপর থেকে তিনি সেখানে নিয়মিত হতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখানে পার্শ্ব চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। তবে টিকতে পারেননি সেখানে। এখন হয়তো সেখানকার কেউ তাকে চেনেও না। ফিরে এসেছেন এই বাংলায়। এসে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে কাজ করছেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতেই ‘কুলি’ সিনেমায় অভিনয় করে তাক লাগান পপি। দিনকে দিন পপির চাহিদা বাড়তে থাকে। তখন তাকে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন নির্মাতা ওয়াকিল আহমেদ। ‘কোটিপতি’ ছবির কাজ শুরু করেছিলেন। মাঝ পথে এসে যৌথ প্রযোজনার সিনেমার অফার পেয়ে শুটিং রেখে কলকাতায় পাড়ি জমান। সেখানে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান তিনি। ওয়াকিল আহমেদ তার নাগাল না পেয়ে শুটিং বন্ধ রাখে। একপর্যায়ে সেই সিনেমার শুটিংই শেষ করতে পারেননি। পপি অল্পদিনেই বুঝতে পারেন অবস্থা ভালো নয়। তিনি ফের দেশে চলে আসেন। অনেকে বলেন এরপর থেকে পপির অবস্থান একটু হলেও নড়বড়ে হয়েছে।

শাকিব খানও কি সে পথে হাটছেন। তাকে সুপারস্টার বানিয়েছে ঢাকার চলচ্চিত্র। কিন্তু তিনি ঢাকার ব্যস্ততা কমিয়ে চলে গেলেন কলকাতায়। ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজ শুন্যের কোঠায় নেমে এলো। অনেকে বলেন, শাকিব খান ক্যারিয়ারে সবসময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ফের ঢাকার ছবিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। নিজে প্রযোজনা করে বেড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণের পথ বের করে দিচ্ছেন। ঢালিউডে নতুন দিনের সূচনা হতে যাচ্ছে। কলকাতার বাঘা প্রযোজককে না বলার সাহসটা যে কেউ করতে পারে না। যেটা শাকিব খান করেছেন। এখন দেখা যাক শাকিব খান এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে কি দিতে পারেন।

অন্যদিকে জয়া আহসানের গল্প সবটুকুই মুগ্ধতার। কলকাতায় গেল কয়েক বছর ধরেই বাণিজ্যিক ছবির বাজার পড়তি। সেখানে এখন জয়জয়কার চলছে ভিন্ন ধারার সিনেমার। আর সেই সিনেমার বাজারে জয়া বেশ নাম করেছেন। তবে জয়াও ফিরে এসেছেন নিজ ভূমে। সেখানকার সিনেমা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এখন আর রগরগে দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি। সিনেমা প্রযোজনা করছেন বাংলাদেশেই। এখন জয়া বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশেই কাটায়। বাংলাদেশে আরও সিনেমা প্রযোজনা ও অভিনয় করবে বলে শোনা যায়। সে সুখের আশায় ছুটছিলেন আরেফিন শুভ, সোহানা সাবা, জ্যোতিকা জ্যোতি, নিরবরাও। কিন্তু কোথায় যেন আঘাত পেয়ে তারা বাংলাদেশেই নিয়মিত।

কলকাতায় গিয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা, আলমগীর, চম্পাও। তবে কেউ তারা সেখানে স্থায়ী হতে চাননি। এক নায়ক রাজ রাজ্জাক ছাড়া সবাই হাতে গোনা দু-একটি কাজ করেছেন অতিথি হয়ে।

একথা এখন আর কারো অজানা নেই, দেশীয় শিল্পীদের মধ্যে যেসব শিল্পীরা ওপারে পা বাড়িয়েছেন তাদের অধিকাংশের ভাগ্যে জুটেছে দুর্ভোগ। তাদের দিকে তাকালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই কবিতাটার কথাই শুধু মনে পড়ে-

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;—

তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,

পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ’

এই শিল্পীরা এটা ভুলে যান যে, মাইকেলও এক সময় কপোতাক্ষ নদের পাড়েই ফিরে এসেছিলেন।

Check Also

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন মিথিলা

তাহসানের সঙ্গে ১১ বছরের সংসার জীবনের সমাপ্তি ঘটানোর পর কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে গাঁটছড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published.