Home / মিডিয়া নিউজ / উপস্থাপিকার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে উপস্থাপক!

উপস্থাপিকার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে উপস্থাপক!

উপস্থাপকের টানে শো দেখেছেন, এমনটা হয়েছে কখনো? দু-রকম উত্তর পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই।

উত্তরটা আসবে বয়সের ব্যাবধানে। যাদের বয়স ২০ এর নিচে তাদের এক উত্তর। বাকিদের আরেক

উত্তর। এর রহস্যটা কী? কারণ গত ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশে এমন কোনো উপস্থাপক তৈরি

হননি, যিনি একটা শো মাতিয়ে দর্শক ধরে রেখেছেন। তার নামেই শো চলেছে। অথচ এমনটা কিন্তু একটা সময় বাংলাদেশে ছিল।

একটা সময়ে বাংলাদেশের উপস্থাপকদের জনপ্রিয়তা ছিল রীতিমতো ঈর্ষা করার মতো। ফিল্মস্টারদের চেয়ে তাদের জনপ্রিয়তা কোনো অংশে কম ছিল না। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফজলে লোহানী, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আনিসুল হক, আবেদ খান, হানিফ সংকেত, জুয়েল আইচ, আসাদুজ্জামান নূর, শাইখ সিরাজ, আবদুন নূর তুষার, ফেরদৌস বাপ্পী, খন্দকার ইসমাইল এমনকি আনজাম মাসুদ কিংবা দেবাশীষ বিশ্বাসরাও অনেকটা সময় মঞ্চ মাতিয়েছেন।

কিন্তু তারপর কী? জয়জয়কার শুরু হয়েছে উপস্থাপিকাদের। তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যেন পেরে উঠেনি কোনো উপস্থাপক। মাঝে মধ্যে দুএকজনের নামশোনা গেলেও। হারানোর গল্পই বেশি। বাংলাদেশের সব বড় পোগ্রাম নিয়মিত দেখা যায় নারী উপস্থাপক। এমনকি পুরুষদের ক্রিকেটেও সেই নারী উপস্থাপক। গেল কয়েকবছরে যেখানে উপস্থাপকের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। সেখানে মুনমুন, অপি করিম , ফারহানা নিশো, নওশীন, নাবিলা, সামিয়া, অ্যামব্রিন, মারিয়া নূর , শ্রাবন্য তৌহিদাদের নাম অনেক বেশি জনপ্রিয়।

উপস্থাপকদের উপস্থিতি যে নেই। তা কিন্তু নয়। তার বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে টিভি কিংবা সিনেমার অভিনেতাদের দিয়ে করানো হচ্ছে। পেশাদার উপস্থাপকের আকাল চলছে।

প্রশ্ন হলো পেশাদার উপস্থাপক কাকে বলে? এখন মাল্টি ট্যালেন্ট যুগ। তবে আগে চাই গাঁথুনি এরপর পত্তন তত্ত্ব অনুযায়ী পর্দায় প্রধান কাজেই ইমেজ তৈরি হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে উপস্থাপক মন্দা বহুদিনের। উপস্থাপকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে প্রেজেন্টার্স প্ল্যাটফর্ম অব বাংলাদেশ। সংবাদ পাঠকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নিউজ ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংবাদ উপস্থাপকদের সুরক্ষা আছে কারণ অন্য পেশার তারকারা সংবাদ পড়েন না। তবে বিনোদন অনুষ্ঠান যারা উপস্থাপনা করেন তাদের সুরক্ষা নেই। প্রতিবেশী দেশের মতো ‘তারকা উপস্থাপক’ তত্ত্ব ক্রমেই হারিয়ে ফেলছে বাংলাদেশ।

এ কারণে অভিনেতা, অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পীরা বসে পড়ছেন উপস্থাপকের চেয়ারে। পেশাদার উপস্থাপক তৈরির পথে আরো একটি বাধা হলো যথাযথ পারিশ্রমিকের অভাব। বিটিভি ও টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনার বাজেট তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। তবে উপস্থাপক সিনেমা, নাটক বা গানের বড় তারা হলে লাফ দিয়ে পারিশ্রমিক পঞ্চাশ হাজার বা আরও বেশি দিতে কার্পণ্য করে না চ্যানেলগুলো। এই ক্ষেত্রে চ্যানেল বিজ্ঞাপনদাতাদের দোহাই দিয়ে থাকে।

এখানে একটা বড় বৈষম্য কাজ করে চ্যানেল ও বিজ্ঞাপনদাতারা নারীমুখ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। অবশ্যই সুন্দর নারীমুখ। বিশ্বসেরা উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রে কৃষ্ণাঙ্গ এবং সুন্দরী নন বলে এখানে নিশ্চয় প্রত্যাখ্যাত হতেন। চ্যানেল ও বিজ্ঞাপনদাতাদের এসব তত্ত্বের অসার দিক প্রমাণ করা যায় যখন দেখবেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও সিগনেচার শো’র উপস্থাপক বেশিরভাগ পুরুষ। পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকালেই দেখতে পাই। কমল নাহতা, তারান আদর্শ কিংবা কপিল শর্মার মতো উপস্খাপক আছেন। কপিলের আয় শুনলে চক্ষু চড়কগাছ অবস্থা।

আমাদের দেশের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের তালিকা করলে এখনো শীর্ষে ইত্যাদি, আনন্দ মেলা, শুভেচ্ছা। পক্ষান্তরে দেখা যায় অনেক নারী উপস্থাপকরা তুমুল ব্যস্ত থাকা সত্বেও তাদের কোনো জনপ্রিয় বা সিগনেচার শো নেই। অর্থাৎ উপস্থাপক নারী বা পুরুষ এটা দর্শকের কাছে কোনো বিষয় নয়। দর্শক বরং বিরক্ত হচ্ছেন ক্রিকেট নিয়ে অনভিজ্ঞ তরুণীকে উপস্থাপকের চেয়ারে বসে আনাড়ি প্রশ্ন করতে দেখে। কোনো বিষয় উপস্থাপনের জন্য একজন উপস্থাপককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে তার প্রতিটি শো’র জন্য অনেক সময় দেওয়া প্রয়োজন। পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন ভালো পারিশ্রমিক এবং নিয়মিত কাজের নিশ্চয়তা। অন্যদিকে চ্যানেলগুলো বাজেট কমাতে ভালো উপস্থাপক এড়িয়ে মানের কথা আর ভাবছে না। দেখা যাচ্ছে সংবাদ পাঠ শেষ করে রাতের অনুষ্ঠানেও একই মুখ উপস্থাপনা করছেন। এমন কোনো বিষয়ে এমন কাউকে বসানো হয়েছে যিনি না জানার কারণে অতিথির কাছেই অপদস্ত হচ্ছেন।

কেন বসানো হচ্ছে ? অনেক সময় অনেক প্রশ্নের উত্তর আমাদের মিলে যায়। এই যেমন আম্রিন অভিযোগ তুলেছিলো চ্যানেল নাইনের বিরুদ্ধে। তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো শো করার জন্য। বনানীর নারী নিপীড়ন মামলার আসামি সাফাতের ছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট হাউজ। সেখান থেকেই তার সংশ্লিষ্টতা হয় দেশের নামী দামি মডেলদের সঙ্গে। এরকম বহু ঘটনা রয়েছে। অনেক কিছু মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। অনেক কিছু অগোচরে রয়ে যায়। তবে সিস্টেম তৈরি হয়ে যায়।

একটি বিষয় বলতেই হবে, এখনকার দিনে উপস্থাপক নয় এখন টক ব্যাগ নির্ভর সঞ্চালকের সংখ্যা বেড়েছে। তারকা যুক্ত করেও অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা তৈরি করা যাচ্ছে না। কারণ, কোন অনুষ্ঠানের পিছনে কেউ যথেষ্ট সময় দিতে পারছে না। পুরুষ যারা এ মাধ্যমে আসছে। অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য না থাকার কারণে এটা তাদের তৃতীয় বা চতুর্থ অপশন হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে পেশাদার উপস্থাপক তৈরি হওয়া জরুরি। চ্যানেল ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মনে রাখা দরকার যে অনুষ্ঠান অনুযায়ী উপস্থাপক প্রয়োজন। নারী বা পুরুষ মুখ্য নয়।

Check Also

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন মিথিলা

তাহসানের সঙ্গে ১১ বছরের সংসার জীবনের সমাপ্তি ঘটানোর পর কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে গাঁটছড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published.